ব্রেকিং

ডব্লিউ২৪ এনএনবিশ্ব সংবাদ, চব্বিশ ঘণ্টা

আল কুরআনে ইসরা ও মিরাজ : প্রামাণ্য বর্ণনা ও শিক্ষা

ধর্ম ও জীবন

লিখেছেন হালনাগাদ ২৬ ফেব, ২০২২, ০৯:৫৮ AM0 reads
3 মিনিট পড়া
আল কুরআনে ইসরা ও মিরাজ : প্রামাণ্য বর্ণনা ও শিক্ষা

ইসরা ও মি’রাজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

মুমিনের ভক্তি ও বিশ্বাস এবং আবেগ ও অনুভূতির শেকড় গভীরভাবে মিশে আছে যার সঙ্গে।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওহীদ ও ঈমানের দাওয়াতে নিজেকে বিলীন করে দিচ্ছেন। কাফেরদের নির্মম অত্যাচার ও অবর্ণনীয় বাক্যবাণে তিনি বিধ্বস্ত। মুষ্টিমেয় কিছু মুসলিম জুলুম – অত্যাচারে নিষ্পিষ্ট। তবুও হৃদয়ে তারা ঈমানের আলো জ্বেলে রেখেছেন।

এভাবেই এগিয়ে চলছে ইসলামের প্রচার – প্রসার। আশ্রয় ও সান্ত

নার বিরাট দুটি বৃক্ষ একে একে চলে গেছেন। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে। খাজা আবু তালিব ও উম্মুল মুমিনীন খাদীজাতুল কুবরা রা.।

আশা ছিল ,  তায়েফবাসী যদি কথাগুলো একটু মেনে নেয়! তাওহীদের দাওয়াত কবুল করে! না ,  তারাও সাড়া দিল না। শুধু কি তাই ,  নির্দয়ভাবে ক্ষতবিক্ষত করল প্রাণপ্রিয় নবীজীকে।

এমন মুহূর্তে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ডেকে নিলেন প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঊর্ধ্বজগতে। রাতের এক খণ্ডে ,  জিবরাঈলকে পাঠিয়ে ,  বুরাকে চড়িয়ে। কুরআনের ভাষায় –

سُبْحٰنَ   الَّذِیْۤ   اَسْرٰی   بِعَبْدِهٖ   لَیْلًا   مِّنَ   الْمَسْجِدِ   الْحَرَامِ   اِلَی   الْمَسْجِدِ   الْاَقْصَا   الَّذِیْ   بٰرَكْنَا   حَوْلَهٗ   لِنُرِیَهٗ   مِنْ   اٰیٰتِنَا   ؕ   اِنَّهٗ   هُوَ   السَّمِیْعُ   الْبَصِیْرُ

.

পবিত্র সেই সত্তা ,  যিনি নিজ বান্দাকে রাতের একটি অংশে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যান ,  যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি ,  তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছু শোনেন এবং সব কিছু জানেন।  – সূরা ইসরা (১৭) : ১

বস্তুত ইসরা হচ্ছে ,  মক্কা মুকাররমা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমণের সেই পর্বটুকু ,  যা রাতের একটি অংশে সংঘটিত হয়েছিল। আর মি’রাজ হচ্ছে সেখান থেকে ঊর্ধ্বজগৎ পরিভ্রমণের সেই বিস্তৃত অধ্যায়।

আল্লাহ তাআলা সূরা নাজমে আরো বলেন –

وَ   لَقَدْ   رَاٰهُ   نَزْلَةً   اُخْرٰی،   عِنْدَ   سِدْرَةِ   الْمُنْتَهٰی،   عِنْدَهَا   جَنَّةُ   الْمَاْوٰی،   اِذْ   یَغْشَی   السِّدْرَةَ   مَا   یَغْشٰی،مَا   زَاغَ   الْبَصَرُ   وَ   مَا   طَغٰی،   لَقَدْ   رَاٰی   مِنْ   اٰیٰتِ   رَبِّهِ   الْكُبْرٰی

.

বস্তুত সে তাকে (হযরত জিবরাঈল আ. – কে) আরও একবার দেখেছে। সিদরাতুল মুনতাহা (সীমান্তবর্তি কুলগাছ) – এর কাছে। তারই কাছে অবস্থিত জান্নাতুল মা ’ ওয়া। তখন সেই কুল গাছটিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল সেই জিনিস ,  যা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।

(রাসূলের) চোখ বিভ্রান্ত হয়নি এবং সীমালংঘনও করেনি। (অর্থাৎ দেখার ব্যাপারে চোখ ধোকায় পড়েনি এবং আল্লাহ তাআলা তার জন্য যে সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন ,  তিনি তা লংঘনও করেননি যে ,  তার সামনে কী আছে তা দেখতে যাবে।) বাস্তবিকপক্ষে ,  সে তার প্রতিপালকের বড় – বড় নিদর্শনের মধ্য হতে বহু কিছু দেখেছে।  – সূরা নাজম (৫৩) : ১৩ – ১৮

ইসরা ও মিরাজের ব্যাপারে কুরআনের বর্ণনায় সংক্ষেপে এতটুকুই বলা হয়েছে। আর বিস্তারিত এসেছে হাদীসের পাঠগুলোতে। সীরাত ,  সুন্নাহ এবং তারীখের নির্ভরযোগ্য সূত্রে রয়েছে এর বিশদ বিবরণ। পবিত্র কালামুল্লাহর এই আলোচনা থেকে যে বিষয়গুলো সামনে আসে তা হচ্ছে –

ক. আল্লাহ তাআলা পবিত্র সত্তা। মানুষের জ্ঞান বুদ্ধি বিবেকের সীমাবদ্ধ গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর শক্তি ও সক্ষমতা। তিনি তার বান্দাকে রাতে পরিভ্রমণ করিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি সর্ব প্রকার সংশয় ও দুর্বলতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

খ. ইসরা ও মিরাজ রাতে সংঘটিত হয়েছিল।

গ. মক্কা মুকাররমা থেকে নবীজীকে প্রথমে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে নবীজী ঊর্ধ্বজগতে আরোহিত হন।

ঘ. বাইতুল মুকাদ্দাস ও তার চারপাশের এলাকা বরকতময়।

ঙ. আল্লাহ তাআলা তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিরাজের নিআমত দান করেছেন তিনি তার বড় বড় কুদরত ও নিশানা দেখাবেন বলে।

চ. মিরাজের বিষয়টি এমন ,  যা সাধারণ বোধগম্য বিষয় নয়। এটা কেবলই মহান রবের কুদরতের কারিশমা। মাখলুকের সীমাবদ্ধ হিসাব – নিকাশ সে পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম নয়… ইত্যাদি।